বাংলা উড়িষ্যার সীমান্তে অবস্থিত ছোট দু একদিনের বেড়ানোর ঠিকানা বিচিত্রপুর। দিঘা হয়েও যাওয়া যায় আবার কেউ খড়্গপুর হয়ে জলেশ্বর চন্দনেশ্বর হয়েও যেতে পারেন।

বিচিত্রপুরের মূল আকর্ষণ ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের খাড়ি। জোয়ারের সময়ে নৌকো বা স্পিডবোট করে দুপাশে ম্যানগ্রোভের জঙ্গল রেখে একটা ছোট দ্বীপে পৌঁছনো। শীতকাল হলে এই গাছগুলোতে অসংখ্য পরিযায়ী পাখীরা আসে। বালিহাঁস থেকে শুরু করে বেশ কিছু ইগ্রেট, সারস ও দেখতে পাওয়া যায়। বছরের অন্য সময়ে পাখী দেখা গেলেও তা খুবই নগণ্য। পানকৌড়ি, মাছরাঙা পাওয়া যায়।

তবে খাড়ি দিয়ে এই নৌকোভ্রমণটা বেশ আনন্দদায়ক। দ্বীপের পাড়ে বসে থাকা যায় অনেকক্ষণ। সুন্দরী হয়তো বা নেই, কিন্তু গেওয়া, কালাসোনা এই জাতীয় গাছ পাওয়া যায়। থাকার জায়গা আগে থেকে বুক করে যেতে হয়। বিচিত্রপুর নেচার ক্যাম্প আগে থেকে বুক করতে হয়। কমপ্লিন্টারি প্রাতরাশ সহ মোটামুটি একটি এসি কটেজের ভাড়া প্রায় ২৫০০ টাকা। পায়ের তলায় সাদা বালি, শান্ত সমুদ্র বিকেল বেলায় সূর্যাস্তের দৃশ্যও মন ভালো করে দেয়।

অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা আছে বিচিত্রপুর জুড়ে। শোনা যায় বেশ কয়েকটি দ্বীপে বাইসন ও পাওয়া যায়। তবে সেইগুলোতে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা আছে। তবে ভাঁটার সময়ে সমুদ্র যখন অনেকদূরে চলে যায় তখন কাদা মাখা বালুকাতটে দেখা মেলে নানান রকমের সামুদ্রিক প্রাণীর।

জলেশ্বর থেকে চন্দনেশ্বর হয়ে ডানদিকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে এই বিচিত্রপুর কটেজ। তবে এখান থেকে ইচ্ছে করলে কেউ উদয়পুর এবং তালসারির বিচেও ঘুরে আসতে পারেন। তবে যারা নিরালা পছন্দ করেন তাঁদের জন্য উদয়পুর, কিংবা তালসারি নয়। যদিও লাল কাঁকড়া দেখতে গেলে তালসারি বা উদয়পুরেই যেতে হবে।

এখান থেকে ১০ কিমি দূরে আছে ভূষন্ডেশ্বরী মন্দির আছে। ওখানকার মানুষজন বলে থাকেন এটা নাকি এশিয়ার সর্ববৃহৎ শিবমন্দির। তবে সেটা বেশী জরুরী নয়। জরুরী ভূষন্ডেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার রাস্তাটা অসাধারণ। দুপাশে মাছের ভেড়ি এবং মাঝখান দিয়ে পাকা রাস্তা আপনাকে নিয়ে যাবে ওই মন্দিরে।

বিচিত্রপুর কিন্তু সমুদ্র নয় যারা শুধু সমুদ্র দেখতে যেতে চান তাঁদের জন্য বিচিত্রপুর নয়। যারা পাখির ডাকের মাঝে নিরালায় দুটো দিন কাটাতে চান তাঁদের জন্য প্রকৃতির ঠিকানা বিচিত্রপুর। বর্ষা, বসন্ত এবং শীতকালে বিচিত্রপুরের সৌন্দর্যই আলাদা।

যারা ধর্মপ্রাণ মানুষ তাঁদের একরকম ভাললাগা থাকে আর যাঁদের শুধুই প্রকৃতিপ্রেম তাঁদের ও ঠিকানা বিচিত্রপুর। তবে একটা কথা না বললেই নয় যদিও বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা আছে তবুও যারা ঘরের মতো খাওয়া বা সবাচ্ছন্দ্য আশা করেন তাদের বিচিত্রপুর না গেলেও হবে। আর যারা দুদিনের অবকাশ খুঁজছেন এই নাগরিক জীবন থেকে তাঁরা ঘুরে আসতে পারেন এই বাংলা উড়িষ্যার সংযোগে অবস্থিত বিচিত্রপুরে।

Related:

Also in Bengali: ‘অরণ্যে রোদন’

Comments

সুমন সেনগুপ্ত কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের বাস্তুকার। সমাজকর্মী, বেড়ানো ছবি তোলা , রান্না করা নেশা।